advertisement
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি, বদলায়নি পুরোনো প্রথা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি, বদলায়নি পুরোনো প্রথা

ব্যাংকে জমা দেওয়ার জরিমানার নথি

advertisement

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রশাসনিক কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হলেও গ্রন্থাগারের নিয়মে এখনো রয়ে গেছে প্রাচীন প্রথা। লাইব্রেরির বই জমা দিতে কয়েক দিন বিলম্ব হলে মাত্র এক টাকা জরিমানা পরিশোধের জন্যও শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে ছুটতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও এর অধীনস্থ বিজ্ঞান পাঠাগারে এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টের সূত্রে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জরিমানা আদায়ের রসিদের ছবি প্রকাশ করেন। পূজার ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে বই জমা দিতে আট-নয় দিন বিলম্ব হওয়ায় বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে তাঁকে এক টাকা জরিমানা করা হয়। গত ৩ নভেম্বর এক কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই রসিদের অর্থ পরিশোধের জন্য তাঁকে টিএসসি চত্বরের জনতা ব্যাংকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নাবিলা জানান, নামমাত্র এই অর্থ দিতে ব্যাংকে যাওয়া অত্যন্ত বিরক্তির বিষয়। একই বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোস্তাকিম জানান, অন্যান্য সেবার মতো এটিও অনলাইনে স্থানান্তর করা গেলে শিক্ষার্থীদের অযথা সময় নষ্ট ও ভোগান্তি দূর হতো। বর্তমানে সাধারণ লেনদেনে এক টাকার কাগুজে নোট দেখা না গেলেও কয়েন চালু রয়েছে; এমনকি ২০২৫ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নকশার নোট ছাপানোর তালিকায় এক টাকার কাগুজে নোট ছিল না।

গ্রন্থাগারের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও জরিমানার নিয়মে বৈপরীত্য দেখা গেছে। ওয়েবসাইটের এক অংশে প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ পয়সা, তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এক টাকা এবং পঞ্চম সপ্তাহ থেকে তিন টাকা জরিমানার তালিকা দেওয়া আছে। অপরদিকে নীতিমালার ১৪ নম্বর বিধানে উল্লেখ রয়েছে প্রতি সপ্তাহে ২৫ পয়সা জরিমানার এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরে নগদে আদায়ের কথা। অথচ বাস্তবে শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে পাঠানো হচ্ছে। যেখানে ২০২৫ সালের ১৩ মে জনসংযোগ দপ্তরের ঘোষণায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নানা ফি অনলাইনে বা নিজ দপ্তরে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে, সেখানে এক টাকা দিতে এখনো ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এ নিয়মকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক জানান, এটি প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বা তারও আগের পুরোনো রীতি। সামান্য পরিমাণ জরিমানার ক্ষেত্রে অন্য কোনো সহজ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন মহলে আলোচনার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব লেনদেন ব্যাংকভিত্তিক হওয়ায় এটি চলে আসছে। তাছাড়া এই প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একধরনের সতর্কবার্তা বা মনস্তাত্ত্বিক শাস্তি হিসেবে কাজ করে, যাতে তাঁরা অবহেলা না করেন। তবে ভবিষ্যতে ভোগান্তি এড়াতে কিউআর কোড বা অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় জরিমানা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর