advertisement
advertisement

ড্যাফোডিল বন্ধুসভার আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ উপন্যাসের ভার্চ্যুয়াল পাঠালোচনা


আলজাজিরা নিউজ বিডি -"রক্ত চক্ষুর চাহনি? সে তো ক্ষণিকের ধোঁয়া,সত্যের শিখা জ্বলে ওঠে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ" | প্রতিবেদক: Md. Zahangir Hasan প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
ড্যাফোডিল বন্ধুসভার আয়োজনে হুমায়ূন আহমেদের ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ উপন্যাসের ভার্চ্যুয়াল পাঠালোচনা

advertisement

ড্যাফোডিল বন্ধুসভা সম্প্রতি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কালজয়ী উপন্যাস ‘মেঘ বলেছে যাব যাব’ নিয়ে একটি ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রের আয়োজন করে। গত ২১ মে রাত ১০টায় গুগল মিট অ্যাপের মাধ্যমে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠচক্রের শুরুতে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জেবা আনিকা উপন্যাসটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠ করে শোনান। এরপর তিনি বইটির মূল কাহিনি, বিভিন্ন চরিত্র, লেখকের উপস্থাপন ভঙ্গি এবং পাঠকের অনুভূতির নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাসান। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এক বেকার যুবক হলেও, তাকে পুরোপুরি বেকার বলা চলে না, কারণ সপ্তাহে একদিন তিনি হিশামুদ্দিন সাহেব নামের এক ধনী ব্যক্তির জীবনের গল্প লিখে থাকেন।

হাসানের পারিবারিক জীবন, অভাব-অনটন, রীনা ভাবির আত্মত্যাগ, তিতলীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন—সবকিছু মিলে উপন্যাসটি পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর ছাপ ফেলে। বন্ধু মুহাম্মদ তোহা তার আলোচনায় বলেন, “এই উপন্যাসে এমন এক জীবনের গল্প বলা হয়েছে যেখানে স্বপ্ন আছে, কিন্তু সামর্থ্য নেই; ভালোবাসা আছে, কিন্তু প্রকাশ নেই। অনেক অনুভূতি মানুষ নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখে, বলতে পারে না, তবু সেই অনুভূতিগুলোই তার জীবনের সবচেয়ে সত্য অংশ হয়ে থাকে। হুমায়ূন আহমেদ খুব সাধারণ কিছু মুহূর্তকেও এমনভাবে তুলে ধরেন যে পাঠক নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান গল্পের ভেতর। হাসানের চরিত্রে একজন সংগ্রামী তরুণের স্বপ্ন আর বাস্তবতার দ্বন্দ্ব খুব গভীরভাবে ফুটে উঠেছে।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে বন্ধু সালমান ফারসী হুমায়ূন আহমেদের লেখার স্বকীয়তা ও বিশেষত্ব তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন, “হুমায়ূন আহমেদের লেখার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, তাঁর গল্পে আলাদা করে নাটকীয়তা খুঁজতে হয় না; সাধারণ জীবনের ভেতরেই তিনি অসাধারণ অনুভূতির জন্ম দেন। পাঠক গল্প পড়তে পড়তেই কখন যেন চরিত্রগুলোর খুব কাছের মানুষ হয়ে ওঠে।” তিনি বন্ধুদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে, বই কেবল জ্ঞান বৃদ্ধি করে না, মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও কল্পনার জগৎকেও সমৃদ্ধ করে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের আরও মানবিক ও সচেতন করে তোলার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।

ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সভাপতি মুসাভভির সাকির পাঠচক্রের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি বই নিয়ে একসঙ্গে আলোচনা করার সৌন্দর্যই আলাদা। একজন পাঠক বই থেকে যা অনুভব করে, অন্য একজনের অনুভূতির সঙ্গে তা মিলিয়ে গেলে নতুনভাবে বইটিকে আবিষ্কার করা যায়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, পাঠচক্র শুধু বইয়ের আলোচনা নয়, এটি ভাবনার আদান-প্রদান, সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা এবং সাহিত্যকে নিজেদের জীবনের আরও কাছে নিয়ে আসার একটি চমৎকার মাধ্যম।

এই ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্রে আরও যুক্ত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অনীক ভূষণ সাহা, সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজ, বন্ধু তানজিল মাহমুদ, রাফিয়া ইসলাম, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, আবিদুর রহমান, মোহাম্মদ ফাইকুজ্জামান, সরকার পিয়াস, সপ্তদীপ বর্মণ, তানহা তাসনিম, কাফিল, নাফিস মাহামুদসহ আরও অনেকে।

advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর