অভিনয়জগতে পা রাখার মাত্র দেড় বছরের মাথায় দর্শকের নজরে এসেছেন তরুণ অভিনেত্রী সাদনিমা বিনতে নোমান। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তাঁর অভিনীত ‘তোমার ঠিকানায়’ ও ‘আপনপর’ নামের দুটি নাটক কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালের ভালোবাসা দিবসে ‘মনেরই রঙে রাঙিয়ে’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় তাঁর পথচলা শুরু হয়। চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত কাজ করতে করতে চলতি বছর নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিষেক ঘটেছে তাঁর। নিজের এই পরিচিতি এখন বেশ উপভোগ করছেন তিনি। গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি কক্সবাজারে গেলে ভক্তরা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে ও ছবি তুলতে ভিড় জমান। সাদনিমার ভাষ্য, অভিনেত্রী হওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তাঁর ছিল না; দর্শকের ভালোবাসাই তাঁকে এই অঙ্গনে ধরে রেখেছে।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে স্কুল ও কলেজের পাঠ চুকিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন সাদনিমা। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করার পাশাপাশি অভিনয়ে নাম লেখান। ব্যস্ততা বাড়লেও চাকরি ছাড়েননি তিনি। অভিনেত্রীর মতে, বাইরে থেকে তুমুল ব্যস্ত মনে হলেও তিনি মাসে সর্বোচ্চ দুই থেকে চারটি নাটকের শুটিং করেন। সাদনিমা বলেন, ‘চাকরির সঙ্গে আগের মতোই ম্যানেজ করছি। আপনারা হয়তো দেখছেন, আমার প্রচুর কাজ আসছে। কিন্তু আসলে আমি এখনো তুলনামূলকভাবে খুব কম কাজ করি। মাসে দুই-তিনটা, সর্বোচ্চ চারটা প্রোডাকশনে কাজ করি। এর বেশি করি না।’ কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কলিগরা অনেক সাপোর্টিভ। এটা এর আগেও বলেছি। এই সাপোর্টটা আমার জন্য অনেক বড়। তাঁদের সহযোগিতার কারণেই আমি কাজ করতে পারছি।’ এর ফাঁকে গত আগস্টে প্রায় ২০ দিনের জন্য প্রথমবার থাইল্যান্ড সফর করেন তিনি। পাতায়াসহ বিভিন্ন দ্বীপে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি শুটিংও সেরেছেন তিনি।
পরিচালক সেরনিয়াবাত শাওনের ‘তোমার ঠিকানায়’ নাটকে সাদনিমার সহশিল্পী ছিলেন খায়রুল বাসার। প্রচারের মাত্র দেড় সপ্তাহের মধ্যে নাটকটি কোটির ক্লাবে পৌঁছায়। খায়রুল বাসারের সঙ্গে কাজ করাকে অনেকটাই কাকতালীয় উল্লেখ করে তিনি জানান, সিনিয়র অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখা যায়। তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে ‘আপনপর’ ছাড়াও বর্তমানে জোভান, পার্থ শেখ ও সাদ নাওভীদের বিপরীতেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। এদিকে সহশিল্পী খায়রুল বাসারের সঙ্গে ঘনঘন কাজের সুবাদে প্রেমের গুঞ্জন ছড়ালেও তা নিয়ে একেবারেই ভাবছেন না সাদনিমা। তাঁর কথায়, ‘এটা নিয়ে আমি একদমই বদারড নই। গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। গুঞ্জনে কান না দেওয়াই ভালো। আমরা শুরু থেকেই একসঙ্গে কাজ করে আসছি। এখনো করছি, সামনেও করব।’ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নয়, বরং দর্শক পছন্দ করেন বলেই তাঁরা জুটি বাঁধছেন বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
নাটকের সীমানা পেরিয়ে গত ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সাদনিমার। সিয়াম আহমেদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার ও পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি বলেই স্বল্প সময়ের চরিত্র হলেও কাজটি করেছিলেন তিনি। চরিত্র নির্বাচনের ব্যাপারে সাদনিমা বলেন, ‘গল্পে আমার স্ক্রিন টাইম কতটুকু, সেটা আমি কখনো দেখি না। আমি দেখি, আমার চরিত্রটা গল্পে কী ইমপ্যাক্ট ফেলছে। সেটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চারটি নাটকের বাইরে একটি ফেস্টিভ্যালভিত্তিক স্বাধীন ধারার (ইন্ডি) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।