বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বাড়ার ফলে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পূর্বে নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার এখন কিনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। রবিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পক্ষ থেকে নতুন এই দর ঘোষণা করা হয়, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হচ্ছে। এর আগে গত মাসে পণ্যটির দাম কমেছিল ১৩ টাকা।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন সমন্বয়ে প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা, যা ইতিপূর্বে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। এই হারের ওপর ভিত্তি করেই বাজারে থাকা অন্যান্য পরিমাপের সিলিন্ডারের দর চূড়ান্ত হবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দর আগের মতো ৮২৫ টাকাই বহাল রয়েছে। অপরদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের প্রতি লিটারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা, যার পূর্বমূল্য ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে সংস্থাটি নিয়মিত এই দর সমন্বয় করে আসছে। আমদানিকৃত কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের ওপর সৌদি কোম্পানি আরামকো ঘোষিত মাসিক সৌদি সিপি (কার্গো মূল্য) এবং আমদানিকারকদের ইনভয়েসের গড় ডলার রেট বিবেচনা করে দেশীয় বাজারে এই দর ঠিক করে বিইআরসি।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এলপিজির দাম যুদ্ধবিরতির প্রভাবে কমতে শুরু করলেও গত দুই মাস তা ওঠানামার মধ্যে ছিল। চলতি মাসে এসে ফের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটল। এর আগে সংঘাতের জেরে গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম বেড়েছিল, যেখানে মাসের শুরুতে ১২ কেজিতে ৩৮৭ টাকা এবং ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি পায়; যদিও পরবর্তীতে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই দফা দাম কমানো হয়েছিল। এদিকে বর্তমান বাজারে গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় জোগান ঘাটতি থাকায় ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের কারণে অনেকেই এই সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ কাটছে না।