নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের সামনে বেশকিছু লোকজনকে জড়ো হতে দেখা যায়। ৭ নভেম্বর
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরে অবস্থিত নিউগিনি প্রপার্টিজ নামের একটি আবাসন প্রকল্পে গত শনিবার বিকেলে পুনরায় হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজন নারীসহ মোট ১৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রকল্পের মালিকের অভিযোগ, ঘটনার শিকার হওয়া সত্ত্বেও উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, শনিবারের ঘটনায় আটককৃতদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তিনি রোববার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময়ে তিনি সেখানে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে তিনি নিজে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ এজাহার থেকে কিছু নাম বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেয়, যার কারণে তিনি আর মামলা দায়ের করেননি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তির এজাহারের ভিত্তিতে নাজিম উদ্দিনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ওসি আরও উল্লেখ করেন, নাজিম উদ্দিনও পাল্টা মামলা করতে এসেছিলেন, কিন্তু তিনি এমন ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করতে চেয়েছিলেন যারা হামলার সময় সেখানে ছিলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি মামলা না করেই ফিরে যান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী নুর মোহাম্মদের সঙ্গে নাজিম উদ্দিনের জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধ রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার বিকেলে একদল যুবক আবাসন প্রকল্পের ভেতরের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থাপনায় তাণ্ডব চালায়। নাজিম উদ্দিনের দাবি, আগের একটি হামলার ঘটনায় জামিন পাওয়া আসামিরাই ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে পুনরায় এই আক্রমণ করিয়েছে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও ওই একই প্রকল্পে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানো হয়েছিল। সেই সময় প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়, যা নিয়ে তাঁর প্রকাশিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তোলে।
তদন্তকারী সূত্র জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বরের সেই হামলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. যুবরাজকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যুবরাজ মিরপুরের ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ইসিবি চত্বরের একটি রেস্তোরাঁয় বসে ১৩ জন মিলে হামলার ছক কষেছিল। তখন ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ হামলা সম্পন্ন করতে ইব্রাহিমের সঙ্গে এক কোটি টাকার চুক্তি করেন এবং পরবর্তীতে ইব্রাহিম লোক জড়ো করে যুবরাজকে মাঠে নামান। ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আগে গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে আটজন ইতোমধ্যেই জামিন পেয়েছেন। এছাড়া হামলায় জড়িত আরও নয়জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।